চাকুরি দেবার সময় নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য আইনত নিষিদ্ধ । যোগ্যতা অনুযায়ী যে কোন চাকুরীতে নারী আবেদন এবং নিয়োগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে ও আইনে চাকুরির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ফলে, একই ধরনের, একই জায়গায় ও সমপদে চাকরি করলে নারী-পুরুষ ভিত্তিতে তাদের মধ্যে কোন বৈষম্য করা যাবে না।
চাকরিজীবী হলেও কর্মজীবী নারীর গর্ভধারনের অধিকার রয়েছে। গর্ভধারন কালে সন্মান জনক এবং হয়রানি মুক্ত কর্মস্থলের অধিকার রয়েছে একজন নারীর । অর্থাৎ একজন গর্ভবতী মহিলা শ্রমিকের প্রতি মালিক ও অন্যান্য শ্রমিকের কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেগুলো হলোঃ
ক. গর্ভধারনের কারণে কারো প্রতি কোন বৈষম্য করা যাবে না, তাকে চাকরিচ্যূত করা যাবে না বা তার বেতন বন্ধ করা যাবে না।
খ এমন কোন আচরণ বা মন্তব্য না করা যাতে তিনি শারীরিক বা মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন বা অপমানিতবোধ করেন;
গ. কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অথবা তার স্বাস্থ্যের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ এমন কোন কাজে নিয়োজিত না করা;
ঘ. তাকে ঝুঁকিবিহীন কাজে স্থানান্তর বা পদায়ন করা;
ঙ. কর্মকালীন লিফ্ট ব্যবহারে অগ্রাধিকার প্রদান করা;
মাতৃত্বকালী ছুটি লাভও কর্মজীবী নারীর অধিকার .
সন্তান প্রসবের পর নিয়মিত অফিস করার সময় তার শিশুর দুধপানের সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।
কর্মক্ষেত্রে যৌনহয়রানি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।এবিষয়ে হাইকোর্ট একটি বিখ্যাত রায় প্রদান করেছেন।উক্ত রায় অনুযায়ী সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে যৌনহয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক।আপনি কখনো এর শিকার হলে উক্ত কমিটির নিকট অভিযোগ করতে পারবেন।অথবা গুরুতর ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ থানায় বা আদালতে মামলা করতে পারবেন।প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌনহয়রানি প্রতিরোধে সহায়ক ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষামূলক কর্মকাÐ পরিচালনা করাও উক্ত রায়ে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
Copyright © 2023 Aynerkotha.com - All Rights Reserved.